ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

খামেনিকে হত্যা করে ‘বড় ভুল’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র: হারলান উলম্যান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:২৩ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এক ঐতিহাসিক ‘বড় ভুল’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিল-এর উপদেষ্টা হারলান উলম্যান। তাঁর মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের কৌশল বা ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্র্যাটেজি’ অনেক সময় উল্টো ফল বয়ে আনে, বিশেষ করে আদর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে।

হারলান উলম্যান আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে তাঁকে ‘শহীদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা ইরানের প্রতিরোধ শক্তিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। তাঁর মতে, এতে করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব কোনোভাবেই আপসের পথে হাঁটবে না; বরং তাদের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আলী লারিজানি অত্যন্ত দক্ষ ও কৌশলী ব্যক্তি। নেতৃত্ব তাঁর হাতে গেলে ইরানের নীতিগত অবস্থান আরও অনমনীয় হয়ে উঠতে পারে। উলম্যানের দাবি, শীর্ষ নেতাদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি; ফলে এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক শোকবার্তায় দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ‘ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি জানিয়েছে এই অভিযান ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ শুরু হবে।

আইআরজিসি খামেনিকে ‘মানবতার জঘন্যতম জল্লাদদের হাতে শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত থেকে কারও রেহাই মিলবে না। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ভোরে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে খামেনির মৃত্যু হয়। তাঁর স্মরণে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এই নিখুঁত অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যেখানে খামেনি বা তাঁর সহযোগীদের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও পুলিশের অনেক সদস্য এখন আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন এবং তারা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি প্রার্থনা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক দিনের অভিযানে ইরান রাষ্ট্র অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর