ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা করা ছাড়া ইরানের অন্য কোনো উপায় নেই।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমরা প্রতিবেশী ভাইদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করছি না। আমরা হামলা করছি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে।” তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়াতে চায় না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে। তেহরান চায়, প্রতিবেশী দেশগুলো পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ অনুধাবন করুক। আব্বাস আরাগচির ভাষ্য, “আমাদের আশা, প্রতিবেশী দেশগুলো এটা বুঝতে পারবে যে, এই পরিস্থিতি ইরানের সৃষ্টি নয়। এর জন্য ইরানের দায়ও নেই। কিন্তু ইরানের আর করার কিছু নেই।”
সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
আব্বাস আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেনি। বরং তারা কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের চেষ্টা করছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
তিনি বলেন, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রয়োগ করছে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা পরিস্থিতিকে বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ বক্তব্য মূলত আঞ্চলিক সমর্থন ধরে রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। মধ্যপ্রাচ্যে জোট রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তেহরান চাইছে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, ইরানের বিরুদ্ধে নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।