ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ইরান নয়, সৌদির আরামকোতে হামলা চালায় ইসরাইল


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:১০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের রিয়াদের আরামকোতে হামলাটি ছিল একটি ইসরাইলি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত গোপন অপারেশন—এমন দাবি করেছে ইরানের একটি সামরিক সূত্র। তাদের মতে, ইরানে আক্রমণের অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরানো এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

তাসনিম নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট সামরিক সূত্র জানায়, ইরান পূর্বেই ঘোষণা করেছে যে তারা এই অঞ্চলে সব আমেরিকান ও ইসরাইলি সম্পদ এবং স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। ইতোমধ্যে তাদের অনেকগুলোর ওপর হামলাও চালানো হয়েছে। তবে আরামকোর স্থাপনাগুলো এখন পর্যন্ত ইরানি হামলার লক্ষ্য ছিল না বলে দাবি করা হয়।

সূত্রটি আরও বলে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর ইসরাইলের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে। ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী সেখানে হামলা চালানোর ইচ্ছা পোষণ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন খবরে বলা হয়, ইরানের ড্রোন সৌদি আরবের আরামকোর তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। হামলার পর সৌদি আরামকো রাস তানুরা রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। সোমবার (২ মার্চ) এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর স্থাপনায় আগুন লাগে, তবে আগুন সীমিত আকারে ছিল এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রাস তানুরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম তেল শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল শোধনাগারে আঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। কারণ এ ধরনের গোপন অভিযানের উদ্দেশ্য থাকে প্রকৃত হামলাকারীকে আড়ালে রেখে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানো। এর মাধ্যমে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরি, কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।

‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা মিথ্যা পতাকা কৌশল এমন এক ধরনের গোপন অভিযান, যেখানে হামলাকারী পক্ষ নিজের পরিচয় গোপন রেখে প্রতিপক্ষকে দায়ী করার পরিবেশ তৈরি করে। ইতিহাসে বিভিন্ন সংঘাতে এ ধরনের কৌশলের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা অস্বীকার করে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশের স্থাপনায় হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর