এর আগে লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইরান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে প্রথম খবর প্রকাশ করে যে, মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এ বিষয়ে বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধর্মীয় নেতারা সকালে ও সন্ধ্যায় দুটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে মোজতবা খামেনিকে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এমনকি বুধবার সকালেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরিষদের ভেতরে ভিন্নমত রয়েছে। কয়েকজন সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের ঘোষণা মোজতবাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর বলেন, নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা হোসেইনি খামেনির নাম সামনে আসা অনেকের কাছেই আশ্চর্যজনক। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত ইরানের কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর শক্ত অবস্থানকেই নির্দেশ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশটির রাজনীতি, সামরিক নীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস টেলিগ্রামে জানিয়েছে, খামেনিকে মাশহাদে দাফন করা হবে। পাশাপাশি তেহরানে বড় পরিসরে একটি স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
খামেনির কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনীত উত্তরসূরি ছিল না। পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেইকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় এখন ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ আন্তর্জাতিক মহল।