ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কতদিন টিকতে পারে ইসরাইল


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:০৮ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর তেহরানও আর পিছিয়ে নেই। ইরান ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়ে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি মোকাবিলা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। ফলে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তেল আবিব কতদিন বর্তমান স্তরের যুদ্ধ চালিয়ে টিকে থাকতে পারবে—এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চলছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, এটি কোনো সমস্যা হবে না এবং দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালানোর সক্ষমতা তাদের সামরিক বাহিনীর আছে।

কিন্তু ইসরাইলের জন্য, যারা ইতোমধ্যেই গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় সংঘাতের খরচ এবং ইরানের সঙ্গে পূর্বের দফার সংঘাতে ক্লান্ত, একটি দীর্ঘায়িত যুদ্ধ আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।

২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পর থেকে ইসরাইল ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। ফলে টানা বিমান হামলার সতর্কবার্তা, স্কুল বন্ধ রাখা এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সৈন্যকে তলব করতে হচ্ছে। হাইফা, তেল আবিবের মতো শহরগুলো হামলার মুখে পড়েছে এবং জরুরি পরিষেবাগুলো হিমশিম খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে চলাফেরায় বাধ্য।

যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন এখনও বেশ শক্তিশালী। প্রধান শহরগুলোর ইসরাইলিরা শত্রুর মোকাবিলায় দৃঢ় অঙ্গীকার দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কট্টরপন্থীরা ছাড়া প্রায় সব রাজনীতিবিদ সরকারের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক শির হেভার জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে সামরিকবাদের এক জোয়ার বয়ে গেছে। এটি গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের মতো ছিল না। তখন ছিল আতঙ্ক এবং অস্তিত্ব রক্ষার ভয়। এখন এটি এক উন্মাদ সামরিকবাদ এবং অতিমাত্রার আত্মবিশ্বাস। সামান্য সমালোচকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যুদ্ধ ‘সংক্ষিপ্ত’ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

অর্থনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশও জরুরি। ইরানের মতো বিশাল সামরিক শক্তির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইসরাইল কতদিন বর্তমান স্তরের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে তা মিত্রদের সমর্থন এবং ইরানের আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ না হওয়ার ওপর নির্ভর করে।

ইসরাইলের তিন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে: স্বল্পপাল্লার রকেট ও কামানের গোলার জন্য ‘আয়রন ডোম’, মাঝারি পাল্লার রকেট ও ক্রুজ মিসাইলের জন্য ‘ডেভিডস স্লিং’, এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য ‘অ্যারো ২’ ও ‘অ্যারো ৩’। তবে মজুদ ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা প্রকাশ করা হয় না। ১২ দিনের পূর্ববর্তী যুদ্ধের সময় মজুদ কমতে শুরু করেছিল।

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারে রেশনিং শুরু হতে পারে। এতে সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে, যা বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বাড়াবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রায় নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ ইসরাইলের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। গোলাবারুদের খরচ এবং রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েনের কারণে দেশের কোষাগারে বিশাল চাপ তৈরি হচ্ছে। ২০২৪ সালে লেবানন ও গাজা যুদ্ধে ব্যয় ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৫ সালে যুদ্ধ ব্যয় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

অর্থনীতির চাপ, ঋণ সংকট, জ্বালানি ও পরিবহন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা সংকট—তবুও এসব ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি উন্নত অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে, ইসরাইল দীর্ঘায়িত যুদ্ধ চালাতে পারবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেল আবিবের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো সম্ভব। তবে ইসরাইলের কতদিন টিকে থাকবে তা নির্ভর করবে মিত্রদের সমর্থন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন ও তাদের উৎপাদন ক্ষমতার ওপর।


এ সম্পর্কিত আরো খবর