আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের কোম শহরে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে ওই উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা থেকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং অঞ্চলটির আকাশে নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অবিচাই আদ্রাই এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, হামলার সময় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের ইসফাহান শহরে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছে। এর ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইসরায়েল এই অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এ হামলা ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার একটি অংশ। তেহরান আগের মতোই ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। তবে ইসরায়েল এই ধরনের হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থল হামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার সময় কোনো রাজনৈতিক নাগরিক লক্ষ্য করা হয়নি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ধ্বংসে ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলের আকাশে ইসরায়েল নিজেদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে। এই হামলার ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিন্যস্ত করতে হবে।
এছাড়া হামলা শেষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, তাদের লক্ষ্য হলো কেবল সামরিক সংস্থানগুলোকেই ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের সামরিক কর্মীদের ওপর সরাসরি হামলা বা প্রাণহানি ঘটানো তাদের লক্ষ্য নয়। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে। ইরান আগের মতোই প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল এই হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতে চায়, কিন্তু তা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
হামলার প্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বের মতো তেহরান তাদের সামরিক স্থাপনা রক্ষা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে।