আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ দিনে প্রবেশ করেছে। গত কয়েকদিনে দুই দেশের হঠাৎ হামলার জেরে ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। তবে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের মিসাইলের রফতানি ধীরে ধীরে কমে আসছে।
বুধবার (৪ মার্চ) কয়েকজন পশ্চিমা গোয়েন্দা জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তা অব্যাহত থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে তাদের মিসাইল শেষ হয়ে যেতে পারে। সিনিয়র এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এপি’কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সফলভাবে ইরানের মিসাইল লঞ্চারে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার কমে এসেছে। যদিও ইরান হয়ত কিছু মিসাইল সংরক্ষণ করছে।
একই সূত্রে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন বিপদের মুখে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা প্রতিরক্ষা মিসাইলও শেষের পথে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে এখন থেকে সতর্কভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে।
ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন হামলা শুরু করেছে। এই হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, রকেট লঞ্চার এবং সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করা হবে। ইরানজুড়ে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানের মিসাইল ছোড়ার প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও কৌশলগতভাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানে হতাহতদের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। ইরানের মিসাইল স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দারা মনে করছেন, তেহরান যদি একই ধারা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের প্রতিরক্ষা ও হামলার সক্ষমতা সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে।
পশ্চিমা গোয়েন্দারা আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সীমিত সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সফল হামলার কারণে তার লক্ষ্য সফলভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দুই দিকেই চাপ সৃষ্টি করছে।
এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা আরও ব্যাপক আক্রমণ চালাতে যাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, রকেট লঞ্চার এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোই মূল লক্ষ্য। এ ধরণের হামলা তেহরানের সামরিক ক্ষমতাকে সীমিত করবে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যুদ্ধ যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে। ইরানের সীমিত মিসাইল সরবরাহ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা চাপ একত্রে যুদ্ধকে আরও দীর্ঘমেয়াদি এবং বিপজ্জনক রূপ দিতে পারে।
ইরানের সামরিক পদক্ষেপ এবং পশ্চিমা গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিনের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্কভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে প্রতিটি কৌশলগত পদক্ষেপে।