মাদ্রিদে স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন কাদেনা সার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলবারেস বলেন, ‘আমি হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দাবি অস্বীকার করছি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইরানে বোমা হামলা এবং আমাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে স্পেন সরকারের অবস্থান একবিন্দুও পরিবর্তন হয়নি।’ তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সঙ্গে স্পেনের সরকারি অবস্থানের মিল নেই।
এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, স্পেন আগের অবস্থান থেকে সরে এসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সমর্থন পাচ্ছে এবং স্পেনও সেই তালিকায় রয়েছে।
তবে আলবারেসের বক্তব্যে সেই দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তাদের পূর্বঘোষিত নীতিতেই তারা অটল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া বা স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
স্পেন বরাবরই আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও তারা সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলাই তাদের অগ্রাধিকার। স্পেনের সাম্প্রতিক অবস্থান সেই নীতিরই প্রতিফলন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন দেশ সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে স্পেনের অবস্থান একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—তারা কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিচ্ছে না।
সূত্র: এপি