ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

মিত্র দেশগুলো নেই পাশে, নিঃসঙ্গ যুদ্ধে ইরান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৯:১৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েল-মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক, ভারত, রাশিয়া কিংবা চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও বর্তমান সংঘাতে তেহরানের পাশে এসব দেশের কাউকেই সরাসরি দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় দীর্ঘদিন একঘরে হয়ে থাকা ইরান এখন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কার্যত তাকে একাই লড়তে হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তেহরানের দীর্ঘদিনের অংশীদার দেশগুলো মূলত কূটনৈতিক বিবৃতি বা সংযমের আহ্বানেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ইরানের জন্য এটি এক ধরনের ‘নিঃসঙ্গ যুদ্ধ’ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে তেহরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দেশগুলোর কেউই সরাসরি সামরিক সহায়তা বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। বরং আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

বুধবার ন্যাটো জানায়, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাওয়ার সময় তারা সেটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে। যদিও বৃহস্পতিবার ইরান এ ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি অনেকাংশে আদর্শিক অবস্থান ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। ফলে রাষ্ট্রভিত্তিক শক্তিশালী মিত্রতা তৈরির ক্ষেত্রে দেশটি কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি। এর ফলে সংকটময় সময়ে তেহরান প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না।

ইস্তাম্বুলভিত্তিক থিংক ট্যাংক এদাম-এর পরিচালক সিনান উলজেন বলেন, যারা মনে করেছিলেন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একটি নতুন অক্ষশক্তি তৈরি হচ্ছে, তাদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি একটি কঠিন বাস্তবতা। তার মতে, রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য জোট বাস্তবে কার্যকর কোনও সামরিক জোট হিসেবে কাজ করছে না।

দীর্ঘদিন ধরে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং গাজার হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে এসব গোষ্ঠী বর্তমানে চাপে রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বা ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মার্কিন ঘাঁটি বা লোহিত সাগর এলাকায় হামলা চালালেও তা ইরানের ভেতরে চলমান যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার মতো বড় প্রভাব ফেলতে পারছে না।

ভারতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও নয়া দিল্লি এই সংঘাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ভারত ইরানের চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ করলেও একই সময়ে দেশটি ইসরায়েলের অন্যতম বড় অস্ত্র ক্রেতা। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েলের মোট অস্ত্র বিক্রির প্রায় ৩৪ শতাংশ ভারতের কাছে গেছে। যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফরও করেন।

বিশ্লেষক কবির তানেজা বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল অবস্থান হচ্ছে অন্য দেশের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়া।

অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং হামলার নিন্দা জানালেও আঙ্কারার প্রধান উদ্বেগ এখন নিজ দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

রাশিয়াও বর্তমানে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী। যদিও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে তাদের বড় ধরনের সহযোগিতা চুক্তি হয়েছিল, সেখানে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

একইভাবে চীন আপাতত সংযমের আহ্বান জানানো ছাড়া বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর