আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১১ মার্চ) নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়ক একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা চালিয়ে ইরান শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে না, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় গুরুতর হুমকির সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘ ইরানকে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। প্রস্তাবের সূত্র অনুযায়ী, এ ধরনের সামরিক কার্যক্রম উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে। খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই সংস্থার মধ্যে ১৩টি রাষ্ট্র প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে। বাকি দুইটি রাষ্ট্র ভোট দেয়নি বা বিরত ছিল। প্রস্তাব পাস হওয়ার পর পরিষদের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই রেজল্যুশনকে সমর্থন করছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত সংলাপ গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা এই সংলাপের ২১ দিন শেষে কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়া শেষ হয়েছে। এ সংলাপের ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। এ ঘটনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন ইরানকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপ দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষা করার দিকেও গুরুত্ব দেয়। এছাড়া, প্রস্তাবটি ইরানকে আরও সচেতন করে যে, তার সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের অব্যাহত পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জাতিসংঘের পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাব পাসের পর নিরাপত্তা পরিষদ ইরানকে সতর্ক করেছে যে, সামরিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত করা চলবে না। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইন মান্য করতে প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ।
আকাশজমিন / আরআর