আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছে চীন। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কঠোরভাবে ‘এক চীন নীতি’ এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যৌথ ঘোষণাপত্র মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে তাইওয়ানের কাছে নতুন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
গুয়ো জিয়াকুন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের পর তাইওয়ানের জন্য উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রসহ নতুন একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদিত হতে পারে। এই সংবাদে প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীনের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেবল কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি বজায় রাখতে হবে।
চীনের এই পদক্ষেপ ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী যুদ্ধ চলাকালীন এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো—তাইওয়ান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া—নিরাপত্তার জন্য অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চল থেকে সামরিক শক্তি ও সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরানো হচ্ছে, যার ফলে নিরাপত্তা শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাইওয়ানকে চীন একটি ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, তাইপে ১৯৪৯ সাল থেকে কার্যত স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখেছে। তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব চীনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। গত ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। এর জবাবে চীন কয়েকটি মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি ও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বিষয়কও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াকে মধ্যপ্রাচ্যে কিছু থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পর দেশটি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
গুয়ো জিয়াকুন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সব দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে। সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফিরতে হবে, যাতে সংঘাত বিস্তার না পায়। চীন সবসময় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষপাতী এবং আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই বার্তা শুধুমাত্র তাইওয়ান বিষয়ক নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে চীন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা সংকটের বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
আকাশজমিন / আরআর