আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান ‘পুরোপুরি পরাজিত’ হয়েছে এবং এখন তারা চুক্তি করতে চায়, এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এমন কোনো চুক্তি তিনি মেনে নেবেন না। এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো জানাতে চায় না যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কতটা সফল হয়েছে। ইরান পুরোপুরি পরাজিত এবং এখন একটি চুক্তি চায়—কিন্তু সেই চুক্তি আমি করব না।’ তবে তিনি চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে কিছু জানাননি।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ইরানের কর্মকর্তারা অবশ্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, সামরিক অভিযানে ইরান কার্যত পরাজিত হয়েছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনের সংলাপ হয়েছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়া সংলাপ শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইল।
হামলার পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক কার্যক্রম জোরদার হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘ইরানের পরমাণু এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিকল্পিত’ এবং এর মাধ্যমে ইরানের সামর্থ্য সীমিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরান এখন চুক্তি করতে চায়, কারণ তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ধ্বংসপ্রায়।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই যুদ্ধের ফলে শান্তি চুক্তি করা সহজ নয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ খোলা না থাকলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তীক্ষ্ণ এবং সামরিক প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা দিয়েছে, যে কোনো ধরনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশজমিন / আরআর