ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ঢল


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:২২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও ট্রেনে বাড়ি ফিরতে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে অনেকেই সকাল থেকেই স্টেশনে উপস্থিত হচ্ছেন।

স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কেউ পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, হাতে সময় থাকায় ঈদের ঠিক আগের ভিড় ও সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতেই তারা আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মিরাজ উর রহমান বলেন, তিনি কাউনিয়া রেলওয়ে স্টেশনে নামবেন। ঈদ সামনে এলেই বাড়ির টান যেন আরও বেশি অনুভূত হয় বলে জানান তিনি। ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

মিরাজ উর রহমান আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের পথে ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ বাহন। দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেনে গেলে ক্লান্তি তুলনামূলক কম লাগে। তাই আগে থেকেই যাত্রার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী হুমায়ূন আহমেদ হিমু বলেন, ঈদের সময় ট্রেন স্টেশন ও সড়কে ভিড় অনেক বেড়ে যায়। তাই তিনি আগেভাগেই মাকে ও ছোট বোনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ঈদের কেনাকাটাও শেষ করেছেন বলে জানান তিনি।

হুমায়ূন আহমেদ হিমু বলেন, এখন স্টেশনে তুলনামূলক ভিড় কম থাকলেও ছুটি শুরু হলে পরিস্থিতি অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠবে। তিনি জানান, তার বাবা আগামী ১৭ মার্চ গ্রামের বাড়িতে যাবেন। কিছুক্ষণ আগে বাবা নিজেই তাদের স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। ঈদের আনন্দ যেন যাত্রাপথ থেকেই শুরু হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে গত ১৩ মার্চ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদ উপলক্ষে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ সেই বিশেষ ব্যবস্থার দ্বিতীয় দিন। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই দফায় টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকিট থাকলে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানিয়েছেন, যারা টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ করতে চান, তাদের কোনোভাবেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যদি তিনটি টিকিট কেটে থাকেন কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য প্রবেশপথে কঠোরভাবে টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই বিনা টিকিটে কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে।

আজ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই ৩০টি ট্রেনের মোট আসনসংখ্যা ২৮ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৩টি ট্রেনে রয়েছে ১৬ হাজার ১৯৪টি আসন এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি ট্রেনে রয়েছে ১২ হাজার ৭৩২টি আসন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এসব ট্রেনের আসন গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রা পরিচালনার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর