আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পরপরই পাল্টা জবাবে ইরান উপকূলে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সংঘটিত এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। হামলার পরপরই ঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহকারী বা রিফুয়েলিং বিমান আধুনিক যুদ্ধবিমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিমানের মাধ্যমে আকাশে অবস্থানরত যুদ্ধবিমানগুলো জ্বালানি নিতে পারে, ফলে তারা দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম হয়। তাই এই ধরনের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক অভিযানের সক্ষমতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মার্কিন সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত খারগ দ্বীপে শক্তিশালী বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী অভিযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু এই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, তিনি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীন ও নিরাপদ পথ ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে তিনি সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
খারগ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক তেল বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর