আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম Emirates News Agency এ তথ্য জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল Hamad Al Shamsi।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছিলেন। এসব ভিডিও দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলা প্রতিরোধের দৃশ্য, মাটিতে পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র এবং জনসমাগমের বিভিন্ন দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ও হামলার ভুয়া দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে এমনভাবে দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যেন দেশটির নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ভিডিওর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়া।
এছাড়া কিছু ভিডিওতে বিদেশের বিভিন্ন ঘটনার ফুটেজ ব্যবহার করে তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরের ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে। এমনকি দেশটির সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে—এমন ভুয়া দাবি করেও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ আল সামছি জানিয়েছেন, ডিজিটাল মাধ্যম বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিপন্ন করার কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি বলেন, এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। বিশেষ করে সংঘাত বা সংকটময় পরিস্থিতিতে যাচাই না করা তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে দিলে তা সমাজে ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ১০ জন বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে একজন মিশরের, একজন ফিলিপাইনের, একজন ভিয়েতনামের, একজন পাকিস্তানের, একজন ইরানের, একজন বাংলাদেশের, একজন ক্যামেরুনের, একজন নেপালের এবং দুজন ভারতের নাগরিক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আকাশজমিন / আরআর