আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর দূতাবাস এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera আরবির এক সাংবাদিক।
শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাগদাদের গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত এই মার্কিন দূতাবাসটি ইরাকের অন্যতম সুরক্ষিত কূটনৈতিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। হামলার পরপরই দূতাবাসের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মার্কিন ও পশ্চিমা স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধের প্রভাব ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। এতে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে যুদ্ধ শুরুর পরপরই সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরাকে ফরাসি সেনাদের লক্ষ্য করে চালানো এক ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু তা-ই নয়, সম্প্রতি ইরাকে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
তবে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, শত্রুপক্ষের কোনো হামলা ছাড়াই প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এতে বাহ্যিক কোনো আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে, তাদের হামলার ফলেই ওই মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, তাহলে ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আকাশজমিন / আরআর