ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

হরমুজ প্রণালিতে কেন ভারতীয় ট্যাংকারকে ছাড় দিলো ইরান, জানালেন জয়শঙ্কর


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৩৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ১৫ দিনে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী কমপক্ষে ১২টি তেলবাহী জাহাজ ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু এপর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে কোনো ভারতীয় ট্যাংকারে হামলা হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, এটি ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ফলাফল। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, “এতে লুকোছাপার কোনো ব্যাপার নেই। ভারতের সঙ্গে ইরানের আলোচনা এখনও চলছে, এবং এর কিছু ফলাফল এসেছে। ভারত সবসময় সমস্যা সমাধানে আলাপ-আলোচনা, যুক্তি ও সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেয়।”

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় ট্যাংকারকে ছাড় দেওয়ার কোনো ‘গোপন চুক্তি’ বা বিনিময় নেই। পুরো বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু বছরের, এবং বর্তমান সংঘাত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করে। এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাস পরিবহিত হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করে তাদের তেল রপ্তানি করে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিভিন্ন দেশের ট্যাংকারে হামলাও চালানো হয়েছে। তবে ভারতীয় চারটি ট্যাংকার—পুষ্পক, পরিমল, শিবালিক এবং নন্দা দেবী—নিরাপদে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে। পুষ্পক ও পরিমলে ছিল জ্বালানি তেল, আর শিবালিক ও নন্দা দেবীতে এলপিজি গ্যাস বহন করা হয়েছিল।

জয়শঙ্করের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ চলাচল কোনো কূটনৈতিক বিনিময় নয়। এটি ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল। তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময় আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে সংলাপ ও যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে আসে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল বজায় রাখা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রুটে যে কোনো প্রকার সংঘাত ভারতের জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতীয় ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ চলাচল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্ব বহন করছে।

সার্বিকভাবে, হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় ট্যাংকারকে দেওয়া ছাড় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও ইরানের সমন্বিত কৌশল অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্ব বহন করছে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর