আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপ। ম্যাট্রাইজ–আইএএনএস পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে।
জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দল ভোটের হার ও আসন উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকবে। তবে বিজেপি এখনও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়ে গেছে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে, একই দিনে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হবে।
২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫৫–১৭০ আসন পেতে পারে। বিজেপি জোট ১০০–১১৫ আসন নিতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৫–৭ আসন পেতে পারে। ভোটের হারেও তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩–৪৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে, যেখানে বিজেপি জোট ৪১–৪৩ শতাংশ ভোট পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। অন্যান্য দলগুলো ১৩–১৫ শতাংশ ভোটে ভাগ বসাতে পারে।
জরিপ অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের কিছুটা এগিয়ে থাকার সত্ত্বেও নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। বিজেপি রাজ্যের বেশ কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে, তাই কিছু অঞ্চলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “বাংলায় হাত দিলে দিল্লি কেড়ে নেব।” এর মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে একটি দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের ফলাফলই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে রাজ্যে ক্ষমতার ভাগ্য। জরিপ অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ও আসনের পরিস্থিতি সমানভাবে প্রতিযোগিতামূলক। বিশেষ করে বিজেপি জোটের উপস্থিতি কিছু নির্বাচনী এলাকায় কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, জনসভা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেষ মুহূর্তের ভোটার মনোভাব এবং ভোট প্রচারণার কার্যকারিতা চূড়ান্ত ফলাফলের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: এবিপি