মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কাতার ও বাহরাইনে হামলার সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলের জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাতারে এক ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার হামলার সতর্কসংকেত দেওয়া হয়। প্রথম দফায় সতর্কসংকেত জারির কিছু সময় পর কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পর আবারও নাগরিকদের জন্য দ্বিতীয় দফায় সতর্কসংকেত জারি করা হয়। তখন সবাইকে ঘরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর কিছু সময়ের মধ্যেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
একই সময়ে বাহরাইনেও হামলার সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে। নাগরিকদের দ্রুত নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনীও সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও জেরুজালেম লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। সতর্কসংকেত শোনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
সতর্কতা জারির কিছু সময় পর জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একই সময়ে এই ধরনের সতর্কতা জারি হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে কাতার, বাহরাইন এবং ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত হামলার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা।