যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাব নাকচ করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আগে “নতি স্বীকার” করতে হবে।
মঙ্গলবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বৈঠকেই আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
তবে বৈঠকটি সশরীরে নাকি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পৌঁছে দেয়। যদিও সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, “যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল তাদের পরাজয় স্বীকার করছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ শান্তির জন্য এটি উপযুক্ত সময় নয়।” তার এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত কমার সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। এক সপ্তাহ আগে পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো নতুন ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় নতুন সর্বোচ্চ নেতাও সামান্য আহত হয়েছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিভ্রান্তি দেখা গেছে।
এদিকে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের কাছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হলেও তারা সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এর আগে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনি বলেছিলেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। গত ১৪ মার্চ তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: রয়টার্স