যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অবরোধ থেকে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্ররা যদি এগিয়ে না আসে তবুও অল্প সময়ের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘উদ্ধার’ করা সম্ভব হবে।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার বিশ্বাস, খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা উপকূলে প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছি। মূলত উপকূল এবং জলভাগ নিয়েই এই অভিযান। এবং এতে খুব বেশি সময় লাগবে না।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ জারি করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেসব জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সময়ে ১৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তা সংকটের কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এর প্রভাবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ শিথিল করার জন্য ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কয়েক দিন আগে তিনি মিত্র দেশগুলোকে এই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ ও সেনা পাঠানোর জন্য আহ্বান জানান, কিন্তু অধিকাংশ মিত্র দেশই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে সিএনএনকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু মিত্র না এলেও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো এবং ইসরায়েল তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ইসরায়েল অসাধারণ। ইতোমধ্যেই তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে।”
উল্লেখযোগ্য, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত যে কোনো যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির তীরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। এতে হরমুজ প্রণালির এলাকায় ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপ মূলত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শিথিল করতে নেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় এই জলপথের নিরাপত্তা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা কমানোর উদ্দেশ্যও বহন করছে।
সেনাবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অচল করা হয়েছে। এছাড়া এই অভিযান উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতিপূর্ণ।
এদিকে ট্রাম্পের কথায়, এই অভিযান ন্যাটোর দেশগুলো ছাড়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো সহায়তা করছে, যা হরমুজ প্রণালীকে দ্রুত মুক্ত করতে সহায়ক হবে।
ঢাকা
টুডে / আরজে