ইরানে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদনে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে টানা সংঘাত চলতে থাকায় যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালানো হলেও পাল্টা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মোট ১৬টি এয়ারক্রাফট হারিয়েছে। এর মধ্যে ১০টি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বাকি ছয়টি বিভিন্ন ধরনের সামরিক বিমান। এই ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে যুদ্ধবিমান ছাড়াও জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং বিমান রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে কুয়েত-এ। সেখানে একসঙ্গে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুলবশত কুয়েতি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেই এই বিমানগুলো গুলি করে নামানো হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর কয়েকদিন পর ইরাক-এর আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হয় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান। এতে ওই বিমানে থাকা ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। ঘটনাটি যুদ্ধের অন্যতম বড় মানবিক ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া সৌদি আরব-এর একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ইরান একসঙ্গে পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানেও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। যদিও পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হন, তবে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনাকে ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ইরানের আকাশসীমায় এখনো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কেবল তেহরানের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তারা আংশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, যেখান থেকে সীমিত পরিসরে হামলা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক জটিলতার কারণে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানে চলমান এই সংঘাত কেবল সামরিক নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক রাজনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, উভয় পক্ষের জন্যই এটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি একটি সংঘাতে পরিণত হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর