ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং সৌদি আরব। শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয় সময় থেকে শুরু হওয়া এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বহর মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে ইরান থেকে দ্বিতীয় দফায় একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র ঝাক তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছে। এই কারণে ইসরায়েলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কুয়েতেও একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন অংশে যে প্রচণ্ড শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযানের ফল। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সামরিক বাহিনী কাজ করছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ। বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান যে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, হামলাগুলো তারই বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে থাকা ‘মার্কিন সম্পদ’ এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক অবকাঠামো।
বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অব্যাহতভাবে কাজ করছে এবং সাধারণ নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংকার বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে যুদ্ধের বিস্তার বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আাকশজমিন / আরআর