কলম্বিয়ার পুতুমায়ো প্রদেশে ১২১ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮১ জন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। খবর এপি।
সোমবার (২৩ মার্চ) পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ মডেলের বিমানটিতে মোট ১২১ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১০ জন সেনা সদস্য এবং ১১ জন ক্রু ছিলেন। পুয়ের্তো লেগুইজামো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে বিমানটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে এবং একটি মাঠে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। আশপাশের এলাকা ঘন বনাঞ্চলে ঘেরা হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিজস্ব সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
পৌরসভার ডেপুটি মেয়র কার্লোস ক্লারোস জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় মানুষ দ্রুত সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন। আহতদের দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থাই গুরুতর বলে জানা গেছে।
দেশটির বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিতে বিশেষ ব্যবস্থাসম্পন্ন দুটি এয়ার-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে বিমানবাহিনী জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।
বিধ্বস্ত হওয়া ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ মডেলের বিমানটি শক্তিশালী চারটি ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি সামরিক পরিবহন বিমান। এই ধরনের বিমান সাধারণত সেনা পরিবহন, সামরিক সরঞ্জাম বহন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়াকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল।
উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কেন বিকল হয়ে পড়ল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কলম্বিয়ার সামরিক ও বেসামরিক উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার পর এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিমানটি কেন উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।