মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গতকাল সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ইরানের জাতীয় উৎসব নওরোজ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য গত ২২ মার্চ রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে টেলিফোন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ফোনালাপের সময় দুই নেতা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ ছিল উষ্ণ ও আন্তরিক। ইরানের জনগণের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং নওরোজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং চলমান সংঘাতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টকে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর জন্য সংলাপ ও কূটনীতির পথই সবচেয়ে কার্যকর। মতপার্থক্য দূর করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইসলামাবাদ ভবিষ্যতেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কও বেশ ঘনিষ্ঠ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে ইসলামাবাদ ও তেহরান নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের মতপার্থক্য চলে আসছে। প্রায় দুই দশক ধরে এই ইস্যুগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে মতপার্থক্য দূর করার লক্ষ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে সংলাপ শেষ হওয়ার পরপরই। সংলাপ ভেঙে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, ২৮ অক্টোবর ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকেই ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে জিও টিভি।