আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৪১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
মন্ট্রিয়ল থেকে আসা জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেস ফ্লাইট ৮৬৪৬ রানওয়ে ৪-এ অবতরণের শেষ পর্যায়ে প্রায় ৩০ মাইল গতিতে থাকাকালীন সময়ে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ট্রাকটি অন্য একটি বিমানের জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে যাচ্ছিল। বিমানে মোট ৭২ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে রেডিও বার্তায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ফায়ার ট্রাকটিকে থামতে নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ পৌঁছানোর আগেই সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় তিন মাইলে নেমে এসেছিল। তবে আবহাওয়া এ ঘটনার মূল কারণ কি তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আহতদের মধ্যে পোর্ট অথরিটির এক সার্জেন্ট ও এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন। আহত যাত্রীদের এলমহার্স্ট হাসপাতাল এবং নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত রাখে। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড ও এফএএ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবহন বিভাগের সাবেক পরিদর্শক জেনারেল মেরি শিয়াভো বলেন, দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল এবং এর জন্য এফএএর দায়িত্বহীনতা দায়ী। তিনি বলেন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। বিমানকে রানওয়েতে নামার অনুমতি দেওয়ার পরও একই রানওয়েতে ফায়ার ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেওয়া ছিল ‘স্পষ্ট ভুল’।
শিয়াভো সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার সংঘর্ষের ঘটনা-র সঙ্গে এই দুর্ঘটনার তুলনা করেছেন। তার মতে, সেই ঘটনাটিও এফএএর একই ধরনের দায়িত্বে অবহেলার ফল ছিল।
নিউইয়র্ক পুলিশ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে। দুর্ঘটনার প্রভাব বিমানবন্দর ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘসময় দেখা গেছে।