কলম্বিয়ার পুতুমায়ো প্রদেশের পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় সোমবার (২৩ মার্চ) সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বিমানটিতে মোট ১২৫ জন সেনা, ক্রু ও পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিধ্বস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমানটি বসতবাড়ির কাছে পড়ে যায়। গহীর জঙ্গলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া উঠে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা AFP এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিধ্বস্ত বিমানটি ‘সি-১৩০ হারকিউলিস’ মডেলের। এটি গত এক মাসের মধ্যে লাতিন আমেরিকায় একই ধরনের দ্বিতীয় বিধ্বস্ত ঘটনা। এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি বলিভিয়ায় একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং খুব দ্রুত নিচে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ধ্বংসাবশেষ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করতে ও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং মৃতদেহ সনাক্তকরণের কাজ চলছে। প্রাদেশিক গভর্নর দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিধ্বস্ত বিমানটি পুতুমায়োর জঙ্গলে উড্ডয়ন করছিল, এবং দুর্ঘটনার সময় এটি বসতবাড়ির খুব কাছ দিয়ে নিচে নেমেছিল। এর ফলে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক পরিবহন বিমানের নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি লাতিন আমেরিকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। তারা আশা করছেন, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।