ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে স্পিকার গালিবাফকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:০৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন নীরবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সম্ভাব্য অংশীদার, এমনকি ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবেও বিবেচনা করছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক চাপ কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সমাধানের পথ খুঁজছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

৬৪ বছর বয়সী গালিবাফ বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। তারপরও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তার কাছে তিনি ‘কার্যকর অংশীদার’ হিসেবে বিবেচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে গালিবাফ ইরানের নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে হোয়াইট হাউস এখনই কোনো এক ব্যক্তির ওপর নির্দিষ্টভাবে বাজি ধরতে রাজি নয়। তারা একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই করছেন, কে চুক্তি করতে রাজি হতে পারে তা বোঝার জন্য।

এই আগ্রহ ইঙ্গিত দেয়, যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান ইস্যুর জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে। এই সংকট ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে, তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি বড় প্রশ্ন তোলেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরানের নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তী নেতৃত্ব কে গ্রহণ করবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ‘এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দরকষাকষি করবে না।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার ইরানের শক্তিশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত দেন এবং ঘোষণা করেন, কূটনৈতিক আলোচনার সময় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে।

ট্রাম্পের আরেকটি লক্ষ্য অর্থনৈতিক—তেল। কর্মকর্তাদের মতে, তিনি ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপ ধ্বংস করতে চান না। ভবিষ্যৎ নেতা চুক্তির মাধ্যমে তেলের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এক কর্মকর্তা বলেন, “সবকিছুই এমন একজনকে বসানো নিয়ে, যিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং তেলের বিষয়ে প্রথম চুক্তি করবেন।”

যদিও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, গালিবাফ ভেনেজুয়েলার ডেলসি রদ্রিগেসের মতো নমনীয় হবেন কিনা তা অকালপক্ব ধারণা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক আলী ভায়েজ বলেন, ‘গালিবাফ আদর্শ ইনসাইডার—উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও বাস্তববাদী। তবে মূলত ইসলামি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই ওয়াশিংটনকে অর্থবহ ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম। সীমা পরীক্ষা করতে চাইলেও সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান তাকে আটকে দেবে।’

প্রশাসনের কাছে ভেনেজুয়েলা একটি তুলনামূলক সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলবি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে নেই, কারণ তার দেশে পর্যাপ্ত বৈধতা নেই। কর্মকর্তাদের মতে, তাকে বসালে বিশৃঙ্খলা হবে।

গালিবাফ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অস্বীকার করেছেন। তবে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এটিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এখন পরীক্ষা করছি—কে উঠে আসতে পারে, কে চুক্তি করতে রাজি। কেউ চরমপন্থী হলে তাকে সরানো হবে।’

এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এই সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অন্য সবার মতোই, যুদ্ধের চেয়ে শান্তিকেই বেশি পছন্দ করেন।’



এ সম্পর্কিত আরো খবর