আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্য অবগত ছিল। তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য উত্তেজনা হ্রাস এবং যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান দেখতে চায়। সেই লক্ষ্যে, আমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার খবরকে স্বাগত জানাই।”
স্টারমার আরও যোগ করেছেন, “একটি আলোচনার মাধ্যমে যে চুক্তি হবে, তাতে ইরানের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা উচিত, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।” তিনি জানান, যুক্তরাজ্য চায় এমন কোনো সমাধান যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত প্রতিহত করা যায়।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘প্রায় সব পয়েন্টে’ ঐকমত্য হয়েছে। তিনি বলেন, “চুক্তি হতে হলে কোনো যুদ্ধ থাকা চলবে না এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এই শর্তেই তারা রাজি হয়েছে। এর বাইরে কোনো চুক্তি হবে না।”
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার পর থেকে প্রণালিটি অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কখনো কখনো ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
এর আগে, গত শনিবার সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ-এ ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ব্যবহার নিয়ে ইরানকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি কোনো বাধা ছাড়াই খুলতে হবে। অন্যথায় দেশের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে।” এরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, “সোমবার রাত নাগাদ ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার প্রস্তুতি ছিল। কেন্দ্রটি তৈরিতে ইরান ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। তারা চায়নি এটি ধ্বংস হোক, তাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা তা করি নি। এখন তারা চুক্তিতে আসতে চায়।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিষয়ে অস্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একজন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়েছে; তবে কোনো সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। আমরা জানিও না তিনি বেঁচে আছেন কিনা।”
ট্রাম্প জানান, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যেমন ইসরায়েল ও সৌদি আরব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার বিস্তারিত বিষয় আজকের মধ্যেই টেলিফোনে পুনরায় আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ফলাফলের ওপর বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাজারের অস্থিরতা সরাসরি নির্ভর করছে। যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক উত্তেজনা তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষা ও পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।