ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে মোট ৪,৮২৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহতদের মধ্যে বহু মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানা গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেই সঙ্গে বেড়েছে হতাহত মানুষের সংখ্যা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকরা তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হামলার আশঙ্কায় অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপও ক্রমাগত বাড়বে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাতের মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি বিভাগগুলোতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে এবং চিকিৎসা সেবায় কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই তথ্যগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্য খাতে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক সংঘাতের মানবিক দিকটিকেও আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।