হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি থাই তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদে পার হয়েছে, ইরানের সম্মতির পর। ব্যাংচাক করপোরেশন নিশ্চিত করেছে যে, থাইল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই নিরাপদ যাত্রা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেট সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অনুরোধ করেছি যে, যদি থাই জাহাজগুলোর এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের প্রয়োজন হয়, তবে ইরান নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করতে পারে কি না। ইরান ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং জানিয়েছেন যে তারা বিষয়টি দেখবে। এছাড়া কোন কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে চলবে, তার নাম আমাদের কাছে চেয়েছে।”
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তবে ইরানের সম্মতি নিয়ে কিছু তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সামান্য স্বস্তি এনেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করতে পারে। এছাড়া এটি ইরান ও থাইল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। এই জলপথে প্রতিদিন শত শত জাহাজ তেল ও গ্যাস পরিবহন করে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাত্রা করা জাহাজের সংখ্যা সীমিত হলেও এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি সঙ্কেত পাঠানো হয়েছে যে, ইরান কূটনৈতিক সমাধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
ইরান ও থাইল্যান্ডের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল প্রমাণ করছে যে, কূটনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতা সমুদ্রপথে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর। ব্যাংচাক করপোরেশনের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
আকাশজমিন / আরআর