ইরান দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। আজ বুধবার ইরানের সেনাবাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রেস টিভি একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছে, যেখানে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন রণতরিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, অভিযানটি কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত ছিল এবং লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইরান নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, “আমরা শত্রুর বিমানবাহী রণতরির গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। এটি যদি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালের মধ্যে আসে, আমরা তা লক্ষ্যবস্তু করব।”
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ইরান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল, তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি, তবে তারা রণতরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর পদক্ষেপ বাড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও মহাসাগরীয় অঞ্চলে অভিযান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। ইরানি মিডিয়া বার্তা অনুযায়ী, রণতরিটি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পরই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বজায় রাখতে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের গুরুত্ব পুনরায় সামনে এসেছে।
আকাশজমিন / আরআর