ইসরায়েলের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযানের ‘৮২তম ধাপ’ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ভোরে এই নতুন ধাপের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো। পাশাপাশি মৃত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
এই হামলার মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে চেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এই হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার দাবি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে এমন সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ঘোষণা কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি চাপ সৃষ্টি এবং নিজেদের অবস্থান জোরালো করতেই এই ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো নতুন সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই ধরনের উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অভিযান ধাপে ধাপে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা আরও বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা