ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

তিন কারণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এগিয়ে ইরান


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:৩৯ পিএম

ইরানের হরমুজ প্রণালি বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে সংবেদনশীল চোকপয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে এই সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এ সংকীর্ণ সমুদ্রপথের উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে আছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহে প্রয়োজনীয় সারও এই পথের মাধ্যমে পরিবহণ হয়।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের ক্ষমতা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য শক্তির তুলনায় অনেক বেশি। প্রথমত, ইরানের অপ্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতি। সস্তা ড্রোন, সামুদ্রিক মাইন এবং দ্রুতগামী ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা খুব কম খরচে বড় ধরণের ক্ষতি ঘটাতে পারে। এমনকি বিস্ফোরক বোঝাই মনুষ্যবিহীন নৌযানও ব্যবহার করে জাহাজে আক্রমণ চালানো সম্ভব। আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো নিক চাইল্ডস উল্লেখ করেছেন, ইরান যদি মাইন পাতার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সাধারণ নৌকা থেকেও তা পরিচালনা করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, ভৌগোলিক অবস্থান। ইরানের প্রায় এক হাজার মাইল দীর্ঘ উপকূল রয়েছে, যার বিভিন্ন অংশ থেকে তারা জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলো স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় ধ্বংস করা কঠিন। হরমুজ প্রণালির উত্তরে ইরানের অংশটি সমতল নয়; সেখানে পাহাড়, উপত্যকা, জনবসতি এবং অনেক দ্বীপ রয়েছে। কেভিন রোল্যান্ডস, রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জার্নাল এডিটর বলেন, এই ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ইরানের জন্য সুবিধাজনক, কারণ তাদের ভ্রাম্যমাণ অস্ত্র ব্যবস্থা লুকিয়ে রাখা সহজ।

তৃতীয়ত, আর্থিক লাভ। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মাধ্যমে ইরান মোটা অঙ্কের ফি আদায় করতে সক্ষম। ২৩ মার্চের ‘লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স’-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, অন্তত দুটি জাহাজ নিরাপদে চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার বিনিময়ে এ ফি নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। প্রায় সব জাহাজই দুটি প্রধান শিপিং লেন ব্যবহার করে, যা আরও সংকুচিত। এ প্রণালিতে রুট পরিবর্তনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে, ইরানকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সময় বা প্রচেষ্টা কম লাগে; তারা শুধু বসে অপেক্ষা করলেই যথেষ্ট।

কেভিন রোল্যান্ডস বলেন, প্রণালির এই সংকীর্ণ অংশ কার্যত একটি ‘কিল জোন’ তৈরি করে, যেখানে কোনো হামলার মুখে পড়ার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়। নিক চাইল্ডস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বড় সাবমেরিনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও, ক্ষুদ্র সাবমেরিন বা মিজেট সাবমেরিন নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বাহরাইন—এই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। তবে ইরানের অপ্রচলিত অস্ত্র, দীর্ঘ উপকূল এবং ভৌগোলিক সুবিধা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে সহজ এবং প্রতিরোধযোগ্য করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিকভাবে নিরাপদ জাহাজ পারাপার এবং সংকীর্ণ চোকপয়েন্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য এই প্রণালির পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর