অনলাইন ডেস্ক:
আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে ‘আস্থা তৈরি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আলোচনার পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী এক ফোনালাপে ইরানি প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানিয়েছে, ইরানের ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করেছেন পেজেশকিয়ান।
ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা প্রশমনে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, আস্থার ভিত্তিতে আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের গঠনমূলক ভূমিকার জন্য তিনি শাহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানান।
জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান সব সময়ই সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় রাখবে।
এর আগে একই ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি এ হামলায় ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেন। তারা মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ। সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও আস্থা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা জোরদার না হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মহলের সমন্বিত উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আকাশজমিন / আরআর