ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ইরানের হামলায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য, বড় ক্ষতি শিল্পখাতে


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:১৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব হামলায় আঞ্চলিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনজীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হামলার অন্যতম বড় লক্ষ্যবস্তু ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গতকাল শনিবার দেশটি সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান Emirates Global Aluminium-এর প্রধান কারখানায় ভয়াবহ আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে কারখানাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহে প্রভাব পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সময়ে হামলার শিকার হয়েছে বাহরাইনের আরেকটি বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান Aluminium Bahrain। প্রতিষ্ঠানটির কারখানাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। যদিও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে একযোগে হামলা চালানো বৈশ্বিক শিল্পখাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। নির্মাণ, অটোমোবাইল ও প্রযুক্তি শিল্পে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব বহুমাত্রিক হতে পারে।

কুয়েতেও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে রাডার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বন্দরটি আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই হামলাকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলার পেছনের কারণ ও জড়িত পক্ষগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা অন্তত ১০টি ড্রোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। তারা বলেছে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই ধারাবাহিক হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে হামলার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেশি। কারণ, এই ধাতুটি আধুনিক শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিমান, গাড়ি, নির্মাণসামগ্রী, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি—সব ক্ষেত্রেই অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার রয়েছে। ফলে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী শিল্পখাতে পড়বে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি ঝুঁকির কারণ। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো সেই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বিনিয়োগ পরিবেশ, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর