ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

রাখঢাক না রেখেই ট্রাম্প বললেন, ইরানের তেল চাই


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:২০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানে তাঁর ‘অগ্রাধিকার হবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গতকাল রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত লক্ষ্য হতে পারে। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো, ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা লোক বলে, ‘আপনি এটা করছেন কেন?’ তারা আসলে বোকা মানুষ।”

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের তেলশিল্প নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পরিকল্পনার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির তুলনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রতাপশালী নেতা নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর দেশটির তেলশিল্পকে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের তেলশিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করতে হতে পারে। ইরানের মোট তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ এই দ্বীপ থেকে পরিচালিত হয়। ফলে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা।

তিনি বলেন, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে। এমনও হতে পারে যে সেখানে আমাদের কিছু সময় অবস্থান করতে হবে।”

তবে খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাব্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ দ্বীপটিতে হামলা চালানো হলে তা বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতাহতের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। পেন্টাগন প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এসব সেনা মূলত ভূমি দখল ও নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা রয়েছেন। আরও ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা বর্তমানে ওই অঞ্চলের পথে রয়েছেন। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনাকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা এই সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ওই হামলায় ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি মার্কিন ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে একদিকে যুদ্ধের পরিস্থিতি জটিল হলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পাকিস্তানি ‘প্রতিনিধিদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানকে একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা চালাতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রশ্নে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রায় তিন হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি আছে। আমরা ইতিমধ্যে ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি। আরও কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একটি বিতর্কিত দাবি করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে এবং পরবর্তী হামলাগুলোতে ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এসব ঘটনার ফলে দেশটিতে ইতিমধ্যে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো মারা গেছেন অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।

তবে তেহরান এই দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। ইরান সরকার বলছে, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে জনসমক্ষে খুব কম দেখা গেছে। এ কারণে তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর