অনলাইন রিপোর্টার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে বেশ দ্রুতই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দখলের হুমকি থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরান বর্তমানে পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি তেলের ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এটি পূর্বের অনুমোদিত ট্যাংকারের সংখ্যার তুলনায় দ্বিগুণ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারও এই অতিরিক্ত ট্যাংকার চলাচলের অনুমোদন দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসা করা হলে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে কি না, যা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেবে, ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, “একটি চুক্তি বেশ দ্রুতই হতে পারে।”
ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও প্রায় ৩,০০০ লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে। এর আগে তারা ১৩,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই সংঘাত থেকে একতরফাভাবে সরে যেতে পারি না, তবে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করলে দ্রুত সমাধানও আসতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা কার্যকর হচ্ছে। পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে ট্রাম্প সঙ্কট মোকাবেলায় অঞ্চলীয় অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব শুধু রাজনৈতিক নয়; আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালির কার্যকর চলাচল বন্ধ থাকলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বাণিজ্যিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আশার আলো হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমাতে সক্ষম হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি আসতে কিছু সময় লাগতে পারে এবং পরিস্থিতি মনিটর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
এই পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও প্রভাবিত করছে। অর্থনৈতিক বাজার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তেল সরবরাহের নিরাপত্তা সবই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব অনিবার্য।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আকাশজমিন / আরআর