আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে দেশটির ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেট অনুমোদন পেয়েছে। এবারের বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ বড় পরিসরে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
২০২৬ সালের বাজেটের মোট আকার প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সামরিক খাতে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সামরিক বাজেটের এই বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচার যুদ্ধ শুরু করেছিল। সেই যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সামরিক খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের জাতীয় বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণেরও বেশি।
নেসেটে বাজেট অনুমোদনের আগে দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, এটি ইসরায়েলের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ’। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বর্তমান বাজেট দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের সামরিক খাতে এমন বড় বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বর্তমান বরাদ্দ কেবল সামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে সাহায্য করবে না, বরং দেশের প্রতিরক্ষা নীতি শক্তিশালী করবে।
নেসেটে বাজেট পাসের মাধ্যমে ইসরায়েল প্রমাণ করতে চাচ্ছে যে, দেশটি যে কোনো নিরাপত্তা সংকটের জন্য প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বে এই বাজেট অনুমোদিত হয়েছে।
সামরিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। এছাড়া এটি মধ্যপ্রাচ্যে দেশের অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং সামরিক বাজেট বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের এই বাজেট সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সামরিক খাতের এই বড় বরাদ্দ ইসরায়েলের অর্থনীতি ও বাজেটের অন্যান্য খাতকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সরকারের লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকা।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
আকাশজমিন / আরআর