পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন যুদ্ধ থামানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে। ২৯ মার্চ, ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনায় নেওয়ার জন্য আঞ্চলিকভাবে সমন্বিত একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
বৈঠক শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ৯০ মিনিটের ফোনালাপে জানেন। এটি ছিল মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ। ফোনালাপের মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা কমানো। পেজেশকিয়ান জানান, আগের পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আস্থা ঘাটতির কারণে ইরান সন্দিহান। একদিকে আলোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে হামলা চালানো হচ্ছে—এই দ্বৈত অবস্থান ইরানের শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বৈঠকে হরমুজ প্রণালিকে জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরাসরি সংলাপের আগে আস্থা তৈরি করার পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও উত্থাপন করা হয়েছে।
এই বৈঠক হঠাৎ আয়োজন হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর এক সম্মেলনে বিষয়টি প্রথমবার আলোচিত হয়। এরপর তা চার দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রূপ নেয়। বৈঠকের শুরুতে এটি আঙ্কারায় হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতায় জোরালো ভূমিকা নেয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়।
চীনও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সমর্থন জানিয়ে ইরানকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে বিশ্বের বড় শক্তিগুলো আঞ্চলিক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে।
তবে বৈঠকের পরও যুদ্ধ থামেনি। এক মাস ধরে চলা সংঘাতে উভয় পক্ষই হামলা বন্ধ করেনি। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোও এতে প্রভাবিত হয়েছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, চার দেশের এই বৈঠক নিজস্বভাবে যুদ্ধবিরতি আনতে পারবে না; মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক অবস্থান সমন্বয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনায় বসানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা।
আকাশজমিন / আরআর