আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষিণ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
বুধবার সকালে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুতি বিদ্রোহীরা জানায়, চলমান সংঘাতের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। তারা দাবি করেছে, একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের ‘স্পর্শকাতর সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু’ লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
হুতিদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলা ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর এবং ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে।
বিবৃতিতে হুতিরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোট এসব হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা মাঝপথেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বাহিনীর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যভেদ করার আগেই প্রতিহত করা হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, হামলার সময় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
হুতিদের এই হামলার দাবি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘোষণার প্রায় তিন ঘণ্টা পর সামনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সমর্থনপুষ্ট একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে তারা মাঝে মধ্যেই ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একাধিক ফ্রন্ট থেকে হামলা চালানো হলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান