আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, এতে বিমানে থাকা ২৯ আরোহী নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় নিয়মিত ফ্লাইট চলাকালীন এএন-২৬ মডেলের বিমানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দ্রুত অনুসন্ধানকারী দল দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানে থাকা ৬ জন ক্রু এবং ২৩ জন যাত্রী সবাই নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল ক্রিমিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে উদ্ধার কাজ করা যথেষ্ট কঠিন ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কারিগরি ত্রুটিকে সন্দেহ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই। বিমান বিধ্বস্ত হওয়া মুহূর্তে এটি সাধারণ যাত্রা পরিচালনা করছিল।
এএন-২৬ মডেলটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি সাধারণ পরিবহন বিমান, যা সাধারণত ব্যক্তিবাহিত ফ্লাইট এবং সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় ক্রু এবং যাত্রীদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে। সেসময় থেকে এই অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। ক্রিমিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং আবহাওয়ার কারণে বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমানে বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য বিস্তৃত তদন্ত করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর রাশিয়ার সামরিক কমান্ড এক জরুরি বৈঠক আয়োজন করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা পরে প্রকাশ করা হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এবং সংবাদ সংস্থাগুলোও এই দুর্ঘটনা মনিটর করছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও রাশিয়ার সামরিক বিমান পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যা থাকলে তা ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।
আকাশজমিন / আরআর