ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীন-পাকিস্তানের পাঁচ দফা প্রস্তাব


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৪০ পিএম

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর যুদ্ধ বন্ধ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাঁচ দফার একটি যৌথ প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে তারা একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশই মনে করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত থামানো না গেলে এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা শুরু করা জরুরি।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে এই পাঁচ দফা উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে সংঘাত কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

যৌথ উদ্যোগের প্রথম প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ যেন অন্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনা শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আলোচনায় সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করতে চীন ও পাকিস্তান সমর্থন দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

তৃতীয় প্রস্তাবে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সামরিক নয়—এমন স্থাপনা ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

চতুর্থ প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম ও শেষ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা অনুসরণ করে একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এমন সংঘাত এড়ানোর পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে চীন ও পাকিস্তানের এই যৌথ উদ্যোগ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। যদিও সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।

সূত্র: আল জাজিরা, ডন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর