যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ন্যাটো যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন। বুধবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একবার এই সামরিক প্রতিরক্ষা জোট থেকে প্রত্যাহার করলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পুনরায় যোগদানের প্রশ্নই আসে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের জলপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় এবং ট্রাম্পের মন্তব্য সেটির সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওহ হ্যাঁ, আমি বলব এটি পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে। আমি কখনো ন্যাটো দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সব সময় জানতাম ওরা একটা কাগুজে বাঘ। আর পুতিনও সেটা জানেন।” এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোট নীতি এবং ন্যাটোর প্রতি আস্থা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এমন অবস্থান ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তিনি মনে করছেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার নয়। এছাড়া, এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ন্যাটোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য নীতি পুনঃমূল্যায়ন করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের কড়া মন্তব্যের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সামরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে। যদিও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য ন্যাটোকে দুর্বল প্রমাণ করা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারিত হবে। ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক এবং আলোচনা সৃষ্টি করেছে।