ইরানের রাজধানী তেহরান-এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। হামলার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল পাস্তোর ইনস্টিটিউট অব ইরান। তিনি বলেন, এই হামলায় গবেষণা কেন্দ্রটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
পাস্তোর ইনস্টিটিউট অব ইরান ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, ভ্যাকসিন উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণায় এই প্রতিষ্ঠানের অবদান দীর্ঘদিনের। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হোসেইন কেরমানপুর এই হামলাকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের শতাব্দী পুরানো স্তম্ভে পরিচালিত হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা শুধু একটি দেশের ক্ষতি নয়, বরং এটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত।
হামলার ধরন বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শন করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হামলা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভ্যাকসিন গবেষণা ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শুধু ইরান নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও এতে প্রভাবিত হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার পরপরই এলাকায় জরুরি সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় এটি একটি বড় ধরনের হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলেও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, পাস্তোর ইনস্টিটিউটের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে হামলা বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তেহরানের এই হামলার ঘটনা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।