ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুন: নিহত ২১, আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৪১ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালবীয় নগরে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন। বুধবার সকালে দিল্লির হাউজ রানি এলাকার একটি পাঁচতলা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেল ভবনে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক। নিহত এই বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। তবে ঠিক কোন দেশের কতজন নাগরিক নিহত হয়েছেন, তা এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত অন্তত ১৭ জন বর্তমানে দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আরেকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রিপাবলিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ও আহত বিদেশিদের বেশিরভাগই মূলত উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ হাই কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহত পাঁচ বাংলাদেশিকে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতাল ও সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির স্থানীয় পুলিশ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও আটকা পড়াদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে এই অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও তদন্তকারীরা এখন বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটকে আগুনের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করছেন। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে, আগুন পাশের ‘লেমন গ্রিন’ নামক একটি রেস্তোরাঁ থেকে ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ পরবর্তীতে তদন্ত শেষে জানায়, আগুনের মূল সূত্রপাত মূলত হোটেল ভবনের ভেতরেই হয়েছিল।

তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। হোটেলটির আইনি অনুমোদন ছিল মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনা করার জন্য। কিন্তু আইন অমান্য করে সেখানে প্রায় ২৫টি কক্ষ তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। ফলে হোটেলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি নিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ভারতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে এমন অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এই ঘটনার পর হোটেলটির লাইসেন্স, আইনি অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা সনদ গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর