ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্যতম প্রধান পর্যটন শহর লা রোমানার বিমানবন্দরে উড্ডয়নের প্রাক্কালে রানওয়েতেই আচমকা বিস্ফোরিত ও অগ্নিদগ্ধ হয়েছে একটি বিশেষ বিজনেস জেট উড়োজাহাজ। অত্যন্ত দুঃখজনক এই দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে থাকা একজন চালক এবং একজন সহচালক তথা পাইলট ও কো-পাইলট উভয়েই ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত রোববার লা রোমানা বিমানবন্দরে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ডোমিনিকান রিপাবলিকের বেসামরিক উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ (আইডিএসি)।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ ধ্বংস ও ভস্মীভূত হওয়া এই জেট বিমানটি ছিল মূলত একটি গালফস্ট্রিম জি ২০০ টুইন ইঞ্জিন বিজনেস জেট এবং এটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত একটি উড়োজাহাজ। বিমানটি ডোমিনিকান রিপাবলিকের লা রোমানা বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু রানওয়ে ধরে উড্ডয়নের ঠিক আগের মুহূর্তে উড়োজাহাজটিতে অত্যন্ত গুরুতর ও আকস্মিক যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বিমানটি বেপরোয়া গতিতে রানওয়ে দিয়ে ছুটতে থাকে এবং সেই বিপজ্জনক অবস্থায় প্রধান পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে দ্রুত জরুরি অবস্থা বা ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেন। কিন্তু তাঁর এই জরুরি বার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বিমানটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। এর ফলে ককপিটে থাকা পাইলট এবং কো-পাইলট আর বের হওয়ার সুযোগ পাননি এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এদিকে, এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে ‘অন ডিজ়াস্টার’ নামের একটি তথ্যচিত্র ভিত্তিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর তা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ দেখেছেন। আগুনের গোল্লায় পরিণত হওয়া বিমানের এই ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠেছেন নেটাগরিকেরা। তবে ঠিক কোন বিশেষ পরিস্থিতির কারণে উড্ডয়নের শেষ মুহূর্তে চালক ও সহকারী চালক বিমানটি থামাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বা চূড়ান্ত কোনো তথ্য তদন্তের স্বার্থে এখনও প্রকাশ করেনি বেসামরিক উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ (আইডিএসি)। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দল রানওয়ে থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করবেন এবং ককপিটের ভেতরের ব্ল্যাক বক্স তথা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।