চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে ৬০ দিনের সময়সীমা রেখে ১৪ দফার একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে হঠাৎ করে ইসরায়েলি সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর পূর্বনির্ধারিত সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তবে শুক্রবার বিকেলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দিতে দ্রুত সেখানে গেছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আজ শনিবার (২০ জুন) সেখানে পৌঁছাবেন বলে কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতায় এবং ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় লেবানন সময় গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় এই দীর্ঘপ্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও হিজবুল্লাহর উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো ইতিমধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং হিজবুল্লাহর পালটা হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সেনা মারা যান। যুদ্ধবিরতির প্রথম এক ঘণ্টায় কিছু বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখাই মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান ও প্রথম শর্ত।
এই সম্ভাব্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তবে এই শান্তি আলোচনায় অংশ না নেওয়া ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের অবরুদ্ধ থাকা হাজার কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল পুনর্গঠন তহবিল ও বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা থাকবে। এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য থাকবে।
এদিকে সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অতিরিক্ত আর্থিক ও রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা মরিয়া হয়ে আলোচনায় বসিনি, ইরান হয়েছে। ওরা শেষ! আমরা আগামী ৬০ দিন ধরে ওদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করব। শর্ত পূরণ না করলে ওরা কোনো টাকা পাবে না, এক পয়সাও না!” অন্যদিকে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। লেবানন সরকার জানিয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিই হবে এই আলোচনার মূল ভিত্তি।