স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ও হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলোর একটিতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইতিহাস গড়তে থাকা আফ্রিকান পরাশক্তি মিশর। একদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপাধারী আলবিসেলেস্তেরা, অন্যদিকে গতি তারকা মোহাম্মদ সালাহকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়া অপ্রতিরোধ্য মিশর। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকদের মাঝে এই ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহ ও উত্তেজনা এখন তুঙ্গে থাকলেও পরিসংখ্যানভিত্তিক বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
বিশ্বখ্যাত বিশ্লেষণধর্মী ক্রীড়া পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টা এই মেগা ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নির্ধারণে প্রায় ২৫ হাজার বার জটিল কম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়েছে। সেই অতি আধুনিক ডিজিটাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল খেলাতেই আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অপ্টার গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে মাঠের লড়াইয়ে রূপকথা তৈরি করা মিশরের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া নির্ধারিত ৯০ মিনিটের সময়ে ম্যাচটি অমীমাংসিত বা ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে পরিসংখ্যান ও কাগজের হিসাবে আর্জেন্টিনা ঢের এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের আসল বাস্তবতা মাঠের ভেতর সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। কারণ, শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ টিকিট নিশ্চিত করতে আগের রাউন্ডের ম্যাচে দুই দলকেই অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিট পর্যন্ত জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম বিশ্রাম ও রিকভারির সুযোগ নিয়েই আজ মাঠে নামছে উভয় দল। এই পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা, ক্লান্তি, ম্যাচ ফিটনেস এবং মাঠের লড়াই চলাকালে সম্ভাব্য চোটের বিষয়টি ফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই সাথে নকআউট পর্বের চরম মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতাও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
শুধু অপ্টার সুপার কম্পিউটারই নয়, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিশেষ বিশ্লেষণেও আর্জেন্টিনাকেই পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবে দেখা হয়েছে। দুই দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম, অতীতে দুই দেশের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস, আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগের কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এআই যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতেও নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। ম্যাচ ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ এবং মিশরের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।
সম্ভাব্য স্কোরলাইন হিসেবেও আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়কেই সবচেয়ে জুতসই ফল হিসেবে দেখছে এআই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাঠের বলের দখল, পাসের নিখুঁত সফলতা এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ম্যাচজুড়ে সিংহভাগ আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। তবে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণ এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর অতিমানবীয় ব্যক্তিগত নৈপুণ্য মিশরের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে। সুযোগ পেলে সালাহ একাই যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন বলেও এই বিশ্লেষণে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য গোলদাতাদের তালিকায় আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও তরুণ স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে। অন্যদিকে মিশরের হয়ে গোল করার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে মোহাম্মদ সালাহর। বড় ম্যাচে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত দক্ষতাই আজ মিশরের প্রধান ভরসা। এখন শুধু অপেক্ষা মাঠের ৯০ মিনিটের আসল লড়াইয়ের।