ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

ইরাকে খামেনির কফিন, নাজাফে জানাজা ও বিশাল শোকমিছিলের প্রস্তুতি


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৫৪ এএম

ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও ধর্মীয় রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন এবার ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে এসে পৌঁছেছে। ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কফিনটি এসে পৌঁছালে সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তা গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক ও সামরিক অভ্যর্থনা জানানোর পর সেখানে এক বিশাল জানাজা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক শোক মিছিলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্বের শিয়া মুসলিমদের কাছে ইরাকের নাজাফ শহরটি অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগঘন একটি ধর্মীয় স্থান। ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা ও চাচাতো ভাই ইমাম আলী (রা.) এই পবিত্র ভূমিতে সমাহিত থাকায় খামেনির মরদেহ এখানে নিয়ে আসাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত ধর্মীয় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক যৌথ ও ভয়াবহ সামরিক হামলায় নিহত হন ইরানের দীর্ঘকালীন এই সর্বোচ্চ নেতা। তার মৃত্যুর পর থেকে ইরানে শুরু হওয়া বহুমাত্রিক শোক র‌্যালির ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই মরদেহটি ইরাকের এই পবিত্র শহরে আনা হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক জানাজা ও শোক মিছিলে সরাসরি অংশ নিতে ইতিমধ্যেই ইরাকের নাজাফ শহরে এসে পৌঁছেছেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বিমানবন্দরে আয়োজিত খামেনির বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে কফিনটি শহরজুড়ে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। বুধবার সেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে একটি স্মরণকালের বৃহৎ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোক র‌্যালি শুরু হয়েছিল। প্রায় দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে সফল নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অনড় ধারাবাহিকতা এবং ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক কঠোর বার্তা দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর